Uncategorized

দাম্পত্য জীবনের ক্ষেত্রে খারাপ সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার উপায়

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে খুব সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে মনমালিন্য সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে যায়। অথচ পরস্পর যদি একে অপরের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং ক্ষমার মন মানসিকতা থাকে তাহলে এই খারাপ সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসা যায়।

তাই আমরা যারা সদ্য বিবাহিত তাদের জন্য কিছু কথা আলোচনা করছি যাতে ভুল করে পরে অনুশোচনা না করতে হয়।

সাধারণত বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পিছনে মৌলিক যে কারণগুলো থাকে সেগুলো হলঃ

  • স্বামী-স্ত্রী একে অপরের হক বা অধিকার যথাযথ আদায় না করা।
  • একজন অন্যজনকে গুরুত্ব না দেওয়া।
  • কথায়-কাজে অযথা দ্বিমত পোষণ করা। –
  • একে অন্যের প্রতি আস্থা না রাখা, বিশ্বাস না করা।

এ সকল কারণে একসময় তাদের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ চরমে পৌঁছে এবং দাম্পত্য জীবন ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়। সুতরাং উভয়ের কর্তব্য হল, পরস্পরের অধিকার বা হকগুলো যথাযথভাবে জানা এবং তা আদায় করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা। কোনো ক্ষেত্রে দোষ বা ভুল হয়ে গেলে তা স্বীকার করে নেওয়া এবং অতি দ্রুত সেটাকে শুধরে নেওয়া। এভাবে সবকিছুকে সহজভাবে মেনে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। তাহলে সম্পর্ক দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে। এরকম শুধরে নেওয়া ও মেনে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে না তুললে সামান্য ব্যাপারকে কেন্দ্র করে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

এখানে স্বামী-স্ত্রীর কিছু অধিকার বা হক তুলে ধরা হল।

স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার বা হক সমূহঃ

এক. স্ত্রীর সাথে সর্বদা ভালো আচরণ করা।

দুই. স্ত্রীর কোনো কথায় বা কাজে কষ্ট পেলে ধৈর্য ধারণ করা।

তিন. উচ্ছৃঙ্খল, বেপর্দা চলাফেরা করতে থাকলে নম্র ভাষায় তাকে বোঝানো।

চার. সামান্য বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ না করা। কথায় কথায় ধমক না দেওয়া। রাগ না করা।

পাঁচ. স্ত্রীর আত্মমর্যাদায় আঘাত করে এমন বিষয়ে সংযত থাকা। শুধু শুধু স্ত্রীর প্রতি কুধারণা পোষণ না করা। স্ত্রীর সম্পর্কে উদাসীন না থাকা।

ছয়. সামর্থ্যনুযায়ী স্ত্রীর ভরণ পোষণ দেওয়া। অপচয় না করা।

সাত. দ্বীনি বিষয়ে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা।
আট. একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মাঝে সমতা রক্ষা করা।

নয়. চাহিদানুযায়ী তাদের সাথে মেলামেশা করা।

দশ. প্রয়োজন মাফিক থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা।

এগারো. মাঝে মাঝে স্ত্রীর নিকটাত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাত করার সুযোগ করে দেওয়া।

বার. নিজেদের একান্ত ব্যক্তিগত কোন বিষয় অন্যের কাছে বর্ণনা না করা।

তের. প্রয়োজনে স্ত্রীকে শাসন করা। সতর্ক করা। তবে অতিরঞ্জিত না করা।

স্ত্রীর উপর স্বামীর হকঃ

১. সর্বদা স্বামীর মন জয় করার চেষ্টা করা।
২. স্বামীর সাথে অসংযত আচরণ না করা। স্বামীকে কষ্ট না দেওয়া।

৩. কোন মতামত জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করা।

৪. প্রয়োজনাতিরিক্ত ভরণ-পোষণ দাবি না করা।
৫. বিবাহ বহির্ভূত কোনো ধরনের অবৈধ সম্পর্ক না রাখা।
৬. স্বামীর অনুমতি ছাড়া কাউকে ঘরে ঢোকার অনুমিত না দেওয়া।
৭. অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া।
৮. স্বামীর সম্পদ হেফাযত করা। অনুমতি ছাড়া সেখান থেকে কাউকে কোনো কিছু না দেওয়া।
৯. স্বামীকে অসন্তুষ্ট করে অতিরিক্ত নফল নামাযে মশগুল না থাকা। অতিরিক্ত নফল রোযা না রাখা।
১০. স্বামী মেলামেশার জন্য আহবান করলে শরীয়তসম্মত কোনো ওযর না থাকলে আপত্তি না করা।
১১. স্বামীর আমানত হিসেবে নিজের ইজ্জত-আব্রু হেফাযত করা। কোনো ধরনের খেয়ানত না করা।
১২. স্বামী দরিদ্র কিংবা অসুন্দর হওয়ার কারণে তাকে তুচ্ছ না করা।
১৩. স্বামীকে কোনো গুনাহের কাজ করতে দেখলে আদবের সাথে তাকে বিরত রাখা।
১৪. কারো কাছে স্বামীর বদনাম, দোষ- দুর্বলতা বর্ণনা না করা।
১৫. শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের পিতা মাতা সমতুল্য ভাবা এবং তাদেরকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করা। ঝগড়া-বিবাদ কিংবা অন্য কোনোভাবে তারা যাতে মনে কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখা।
১৬. সন্তানদের লালন-পালনে অবহেলা না করা।

উত্তম স্বামী এর আরো কিছু সাধারণ গুনাবলীঃ

একটি পরিবার সুন্দর ও সুখময় করে গড়ে তোলার জন্য স্বামীর কর্তব্য সবচেয়ে বেশি। সুতরাং সে যেন স্ত্রীর খুটিনাটি বিষয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ না করে এবং স্ত্রীকে সব কথা মেনে নেওয়ার জন্য বাধ্য না করে। অতএব স্ত্রীর ওপর অধিক চাপ প্রয়োগ করতে থাকলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশংকাই বেশি। স্বামী নিজেকে সংযত রাখবে। সবকিছু ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে। ছাড় দেওয়া ও মায়া-মমতার মাধ্যমে যতদূর সম্ভব দাম্পত্য জীবন স্থায়ী করার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। মাথা গরম করে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন এক নিমিষেই শেষ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

শেষ কথাঃ সুন্দর জীবন গড়তে হলে পরস্পরকে সম্মান করতে হবে, ক্ষমা করার মনমানসিকতা থাকতে হবে, ভালবাসতে হবে মন থেকে।